বইপ্রীতির বিশ্বময় উৎসব আজ পৃথিবীর বইয়ের শহর রয়েছে ফ্রান্সে
// কাজী হাবিবুর রহমান//
পড়ুন আপনার স্বপ্নের বই_ ‘জীবনে তিনটি জিনিসের প্রয়োজন। বই, বই এবং বই।’- লিও টলস্টয়।
ইউনেস্কোর ঘোষণা অনুযায়ী পৃথিবীর প্রথম বইয়ের শহর 'World Book Capital'ছিল স্পেনে মাদ্রিদ (Madrid) শহর ২০০১ সালে।🇨🇵২০২৪ সালে ফ্রান্সের (Strasbourg) স্ট্রাসবুর্গ শহরকে। সম্প্রতি ইউনেস্কো ২০২৬ সালের জন্য বইয়ের রাজধানী ঘোষণা করেছে 'মরক্কোর রাজধানী (Rabat)রাবাত শহর"কে। আগামী ২০২৭ সালের নির্বাচিতশহর 'রিও-ডি-জেনেইরো (Rio de Janeiro'শহর।
বই আমাদের জ্ঞান বাড়ায় এবং নতুন করে ভাবতে শেখায়। বই পড়ার অভ্যাস আরও বাড়াতে UNESCO প্রতি বছর একটি শহরকে ‘World Book Capital’ হিসেবে বেছে নেয়। সেই শহরে সারা বছর ধরে বই ও পড়াশোনা নিয়ে নানা প্রচারের আয়োজন করা হয়। সেখানে সারা বছর জুড়ে নানা অনুষ্ঠান হয়। যেমন— বইমেলা, সাহিত্য উৎসব, লেখকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, পড়াশোনা, বই নিয়ে প্রচার ইত্যাদি।
আজ ৩১তম বিশ্ব বই দিবস,২৩ এপ্রিল যেভাবে এর সূচনা।
২৩ এপ্রিল ১৯৯৫ সালে ইউনেস্কো প্রথমবারের মত বিশ্ব বই দিবস উপযাপন করে। সেই থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবছর ২৩ এপ্রিল বিশ্ব বই দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। যুক্তরাজ্য এবং আয়ারল্যান্ডে মার্চ মাসে এ দিবসটি পালন করা হয়।
দিনটিকে অনেকে ‘বিশ্ব গ্রন্থ ও গ্রন্থস্বত্ব দিবস’ও বলেন।
মূলত বই পড়া, বই ছাপানো, বইয়ের কপিরাইট সংরক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর ২৩ এপ্রিল জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার (ইউনেসকো) উদ্যোগে দিবসটি পালন করে।
পৃথিবীতে এই বই দিবসের প্রথম ধারণাটি আসে স্পেনের লেখক ভিসেন্ত ক্লাভেল আন্দ্রস- এর নিকট হতে।
১৬১৬ সালের ২৩শে এপ্রিল স্পেনের আর একজন বিখ্যাত লেখক মিগেল দে থের্ভান্তেস (যার ভাবশিষ্য ছিলেন আন্দ্রস) মৃত্যু বরণ করেন। আন্দ্রেস তাঁর প্রিয় লেখকের সৃষ্টিকে স্মরণীয় করে রাখতেই ১৯২৩ সালের ২৩শে এপ্রিল থেকে স্পেনে বই দিবস পালন করেন।
📚বই নিয়ে অবাক করার জানা-অজানা ও মজার কিছু তথ্য —
👉হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়েরলাইব্রেরীতে ৪ খানা বই আছে যা মানুষের চামড়া দিয়ে বাঁধাই করা।
👉মাথা পিছু বই পাঠের দিকে শীর্ষে হলো আইসল্যান্ড।
👉বইপড়া মানুষের অ্যালজাইমার রোগে আক্রান্ত হবার
সম্ভাবনা অপেক্ষাকৃত কম।
👉ব্রাজিলের কারাগারে প্রতি একটি বই পাঠের জন্য ৪ দিনের সাজা মাফ হয়।
👉ভার্জিনিয়া উলফ তাঁর সব বই দাঁড়িয়ে লিখেছিলেন।
👉সবচেয়ে চুরি হয় যে বইটি, সেটা হলো বাইবেল।
👉রুজভেল্ট প্রতিদিন গড়ে ১টি বই পড়তেন।
👉শুধুমাত্র দাবা খেলার উপরই লেখা বই-এর সংখ্যা ২০০০০ হাজারেরও বেশি।
👉ফরাসি লেখক ভিক্টর হুগোর লেখা উপন্যাস "লা মিজারেবল" বইয়ে একটি বাক্য আছে যেখানে ৮২৩টি শব্দর সমষ্টি আছে।
👉নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরীর সব বই একসাথে লাইন
করে রাখলে ৮ মাইল লম্বা হবে।
👉লেভ তলস্টয়ের বিশাল উপন্যাস "ওয়ার এন্ড পিসের"
পান্ডুলিপি তাঁর স্ত্রী হাতে লিখে ৭ বার কপি করেছিলেন।
👉নোয়াহ ওয়েবস্টার তাঁর প্রথম ডিকশনারী লিখতে সময় নিয়েছিলেন মাত্র ৩৬ বছর।
👉আর নিজের জীবনে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে করতে 'বঙ্গীয় শব্দকোষ' নামক অভিধানটি তৈরি করতে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রায় গোটা জীবন লেগে গিয়েছিল।
👉মহাভারত পৃথিবীর মধ্যে এক মাত্র বই বা মহাকাব্য যার মধ্যে ১২০০ বেশি চরিত্র আছে।
👉পৃথিবীতে একটি মাত্র বই আছে যে কোনো ভাষাতে অনুবাদ করা যায়নি বহু চেষ্টা করেও তা হলো শ্রী সুকুমার রায়ের "আবোল তাবোল"।
📕ইরাকের রাস্তায়
বইয়ের দোকানদাররা রাতের বেলা তাদের বইগুলো দোকানে খোলা রেখেই চলে যান, কারণ ইরাকিরা বিশ্বাস করেন,
"যে বা যারা বই পড়েন, তারা চুরি করেন না এবং যারা চুরি করেন, তারা বই পড়েন না।"
মানব সভ্যতার ইতিহাসে বই এক অনবদ্য দলিল। যুগে যুগে বই মানুষের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, চিন্তা, চেতনা, মূল্যবোধ, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পথপ্রদর্শক হিসেবে আলোর সন্ধান দিয়েছে। বই সভ্যতা ও সংস্কৃতির ধারক বাহক। মানব সভ্যতাকে এগিয়ে নিতে বইয়ের অবদান অনস্বীকার্য।
এই দিনটি ইউরোপে, বিশেষ করে ফ্রান্সে, বাংলা বইয়ের চর্চার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকুক।
বইয়ের আলো ছড়িয়ে পড়ুক আট থেকে আশিতে- দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত।এই হোক বই দিবসের অঙ্গীকার।
সবাইকে বই দিবসের শুভেচ্ছা ২০২৬।
লেখক, সমাজকর্মী, বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক। প্যারিস,ফ্রান্স।
@তথ্যসূত্র -ইউনেস্কো,উইকিপিডিয়া ও ইন্টারনেট।
কমেন্ট বক্স